এনবিআরের সঙ্গে বৈঠকে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের উদ্যোক্তারা

খাদ্যপণ্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে বর্ধিত ভ্যাট ও শুল্ক প্রত্যাহার প্রয়োজন

প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যে বর্ধিত ভ্যাট ও শুল্ক আরোপ করে ভোক্তার ওপর জুলুম না করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)।

প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যে বর্ধিত ভ্যাট ও শুল্ক আরোপ করে ভোক্তার ওপর জুলুম না করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)। এছাড়া প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যে বাড়তি মূসক ও শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানায় সংগঠনটি। গতকাল বিকালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সংগঠনটি পক্ষে এসব কথা বলেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী আহসান খান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমাদের খাদ্যের ব্যয় বেশি। খাদ্যপণ্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য এ বর্ধিত ভ্যাট ও শুল্ক প্রত্যাহার করতে হবে। আমরা সুলভ মূল্যে ভোক্তার হাতে পণ্য পৌঁছে দিতে চাচ্ছি।

সম্প্রতি মোবাইল, ইন্টারনেট, রেস্তোরাঁসহ একাধিক পণ্য ও সেবায় বর্ধিত মূসক ও শুল্ক প্রত্যাহার করে সরকার। একইভাবে তাদের দাবিও ইতিবাচকভাবে দেখবেন এমন মন্তব্য করে সাংবাদিকদের আহসান খান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা আগের হারে ভ্যাট ও শুল্ক দিতে চাই। এনবিআর চেয়ারম্যান ইতিবাচকভাবে বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছেন। সব শুনে তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। এ ব্যাপারটা দেখতে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিয়েছেন। সার্বিক দিক বিবেচনা করে এনবিআর আমাদের ত্বরিত সমাধান দেবেন। আমরা এনবিআরকে বুঝিয়েছি। আশা করি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ভালো একটা সমাধান পাব। মূসকের হার না যাতে না বাড়ানো হয়। আমরা চাই না এ কষ্টের দিনে ভোক্তার ওপর কোনো রকম চাপ আসুক। আমরা সুলভ মূল্যে ভোক্তার হাতে পণ্য পৌঁছে দিতে চাচ্ছি।’

বর্ধিত ভ্যাট ও শুল্ক প্রত্যাহার না হলে ভোক্তাকে বাড়তি টাকা ব্যয় করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কিছু পণ্যের ওপর ২০০ শতাংশের বেশি ভ্যাট বেড়ে গেছে। ৫ টাকার বিস্কুট আগামী দিনে ৭ টাকা দেয়া লাগবে। ১০ টাকার বিস্কুট আগামী দিনে ১৩ টাকা, ২০ টাকার জুস আগামীতে ২৫ টাকায় কিনতে হবে। বর্ধিত ভ্যাট ও শুল্কের কারণে ভোক্তা ও কৃষকের ওপর কেমন প্রভাব পড়বে। ক্রেতার পকেট থেকে বাড়তি কত টাকা যাবে, এ পয়েন্টগুলো আমরা তার সামনে তুলে ধরেছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে আহসান খান চৌধুরী বলেন, ‘বর্ধিত ভ্যাট ও শুল্কের কারণে বিস্কুটের দাম ১০ শতাংশ বেড়ে যাবে। জুসে প্রায় ২০ শতাংশ সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি আরোপ হয়েছে। ১৫ শতাংশ ভ্যাটে ছিল। তার ওপর আরো ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ২৫ টাকার জুসে সাড়ে ৭ টাকা দেয়ার দাবি ছিল সরকারের পক্ষ থেকে। আমরা বিনয়ের সঙ্গে মাফ চেয়েছি। বলেছি, বাংলাদেশের ভোক্তার কাছ থেকে ২০ টাকার জুসে ৭ টাকা নেয়ার কোনো যুক্তি নেই। তাদের বিনয়ের সঙ্গে আহ্বান জানিয়েছি বাংলাদেশের ভোক্তার ওপর এ ধরনের জুলুম করবেন না।’

ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনামের তুলনায় বাংলাদেশে ভ্যাটের হার বেশি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের খাদ্যের ব্যয় বেশি। খাদ্যপণ্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য এ বর্ধিত ভ্যাট ও শুল্ক প্রত্যাহার করতে হবে।’

পরবর্তী পদক্ষেপ প্রসঙ্গে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা গঠনমূলকভাবে সরকারকে বোঝাব। বার বার বোঝাব। ডায়ালগ ও সেমিনার করব। এনবিআর চেয়ারম্যান অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। একটা সমাধান দেয়ার চেষ্টা করবেন।

তিনি বলেন, গত ৯ জানুয়ারি ভ্যাট ও শুল্ক বাড়ার পরও আমরা এখনো পণ্যের দাম বাড়াইনি। আমাদের লস হচ্ছে। আমরা ভীষণভাবে লোকসান দিচ্ছি। আমরা চাইছি এ লোকসানের বোঝা থেকে কারখানাগুলোকে বের করে নিয়ে আসতে পারি। এর আগে এনবিআর চেয়ারম্যানকে সংগঠনটি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের ওপর বর্ধিত ভ্যাট ও শুল্ক প্রত্যাহার করতে স্মারকলিপি দেয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাপার সভাপতি এমএ হাশেম, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, পারটেক্স স্টার গ্রুপের এমডি আজিজ আল মাহমুদ, এসএমসি এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফ নাসির, রানী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের এমডি মোহাম্মদ বশির, বাংলাদেশ বিস্কুট অ্যান্ড ব্রেড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শফিকুর রহমান ভুঁইয়া, আকিজ ফুডস অ্যান্ড বেভারেজের পরিচালক সৈয়দ জহুরুল আলম, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের চিফ অপারেটিং অফিসার পারভেজ সাইফুল ইসলাম, বাপার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

আরও